শেখ হাসিনা

ভারত ছেড়ে আরব আমিরাতে আশ্রয়: শেখ হাসিনার পলায়ন নিয়ে জল্পনা

বাংলাদেশি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন, সত্য না গুজব?

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, তিনি ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছেন।

অনেকেই এ ধরনের দাবি করেছেন যে, শেখ হাসিনা ভারতের পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খবরটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

গতকাল বাংলাদেশের একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমাইন শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত বাড়িতে তিনি অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পলায়নের কারণ কি?

শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করার প্রেক্ষাপট ও শর্তগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি তড়িঘড়ি করে মাত্র ৪৫ মিনিটের নোটিশে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

তাঁর পলায়নকালে ঢাকার একটি সূত্র জানায়, দিল্লি থেকে জানানো হয়েছে যে শেখ হাসিনা যে কোনো সময় আরব আমিরাতে আশ্রয় নিতে পারেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের পথে হাসিনার উপস্থিতিকে প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখছিল।

তবে হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে ভারত সরকারের ওপর দেশের ভেতরে-বাইরে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে শেখ হাসিনার অবস্থানের বৈধতা ও ভারতের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে। শেখ হাসিনার বিভিন্ন কথোপকথন ফাঁস হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ফাঁস হওয়া কথোপকথন

ফাঁস হওয়া কথোপকথনগুলোর একটি অংশে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, তিনি বাংলাদেশে “টুপ করে ঢুকে পড়বেন”। আরেকটি কথোপকথনে তাকে অন্তর্ঘাতী কাজকে উস্কে দিতে শোনা যায়। এতে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিস্থিতিকে জটিল হিসেবে দেখছে।

ঢাকার বিভিন্ন সূত্র জানায়, ভারত থেকে শেখ হাসিনার পলায়নের কারণ হতে পারে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দায়েরকৃত শতাধিক হত্যা মামলা। ড. ইউনূসের সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়।

শামীম ওসমানের ভূমিকা

শামীম ওসমানের সাথে শেখ হাসিনার সম্পর্ক নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু জল্পনা চলছে। কিছুদিন আগে দিল্লিতে শামীম ওসমানকে নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাজারে দেখা যায়। এরপর তিনি দুবাইয়ের একটি শপিং মলে উপস্থিত হন। এ থেকে ধারণা করা হয়, শেখ হাসিনার আশ্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে শামীম ওসমান ভূমিকা পালন করছেন।

আজমাইন শহরে শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত বাড়ির খবর এবং শেখ হাসিনার সেখানে অবস্থানের গুঞ্জন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বাংলাদেশের বেশ কিছু গণমাধ্যম এই তথ্য তুলে ধরলেও, কোনো পাকা প্রমাণ তারা উপস্থাপন করতে পারেনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা ও ভারতীয় মিডিয়ার নিশ্চুপতা

বাংলাদেশের বেশ কিছু গণমাধ্যম শেখ হাসিনার পলায়ন নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। এসএস টিভির ইউটিউব চ্যানেল, আইবি টিভি, দৈনিক কালবেলা, ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ, নাগরিক টিভি এবং দ্য ক্যাম্পাস এই খবরটি তুলে ধরেছে। তবে উল্লেখযোগ্য হলো, কোনো মিডিয়াই এই তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি।

ভারতের গণমাধ্যমগুলোও এ বিষয়ে পুরোপুরি নীরব। এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো হাসিনার মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও, তার দেশত্যাগের খবর নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

ভারত সরকারও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে শেখ হাসিনার আরব আমিরাতে যাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জন গুজব না সত্য, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

হাসিনার ভারত ত্যাগ ও কূটনৈতিক জটিলতা

শেখ হাসিনার ভারত ত্যাগ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও ভারতকে বিব্রতকর অবস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, শেখ হাসিনা ভারতে কী প্রটোকলে অবস্থান করছেন।

ভারত সরকারের ওপর এই চাপ এবং শেখ হাসিনার ফাঁস হওয়া কথোপকথনের প্রেক্ষিতে, মনে করা হচ্ছে ভারত এখন হাসিনার উপস্থিতি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করছে। শেখ হাসিনার উপস্থিতি ভারতের কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তার পরবর্তী পলায়ন নিয়ে নানা রকম আলোচনা হলেও, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। আরব আমিরাত তাকে আশ্রয় দিয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মামলা, তার দেশত্যাগ এবং তার আন্তর্জাতিক সংযোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়তে পারেন