ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার বাসিন্দা কাওসার হোসেন হৃদয় এবং তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় তিনটি হত্যা মামলা হয়েছে। অথচ তারা কেউই মিরপুরের বাসিন্দা নন।
কাওসারের দাবি, তিনি একজন গরুর খামারি, আর তার দুই ভাই বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বে তাদের একজন জেঠাতো ভাই কাওসারের পরিবারের বিরুদ্ধে এমন মামলা করিয়েছেন।
নিহতের ঘটনাগুলোর সময় কাওসারের দুই ভাই অফিসে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রমাণও পাওয়া গেছে। তবুও তারা মামলার আসামি।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রমাণের অভাব
৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ঢালাওভাবে হত্যা মামলা করা হলেও, অধিকাংশ মামলায় তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ নেই।
ময়নাতদন্ত ছাড়াই অনেক লাশ দাফন হওয়ায় তদন্তে বাধা তৈরি হয়েছে। এমনকি যে অস্ত্র দিয়ে হত্যাকাণ্ড হয়েছে তা-ও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু মামলায় পুলিশ অজ্ঞাতনামা আসামি যুক্ত করলেও প্রকৃত আসামিদের ধরতে তৎপরতা কম। বরং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায় করা হচ্ছে।
ঘুষ আর হয়রানির অভিযোগ
অনেকে অভিযোগ করেছেন, টাকা দিলে মামলায় নাম কাটা যাচ্ছে। আবার টাকা না দিলে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় জড়ানো হয়েছে, অথচ ঘটনার সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে ঘুষ দিতে বলা হয়, অন্যথায় তাকে আরও মামলায় ফাঁসানো হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।
ঢাকার লালবাগে এক এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ককেও হত্যা মামলায় যুক্ত করার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় র্যাবের এক সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার মামলা
গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন মহল।
বিএনপির নেতাকর্মী এবং আওয়ামী লীগের বিরোধী পক্ষকে হয়রানি করতে নাম দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ব্যক্তিগত শত্রুদের ফাঁসাতে মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
রংপুরে এক গণসমাবেশে মামলার বাণিজ্য নিয়ে সমালোচনা করে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, “এমন মিথ্যা মামলা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করছে।”
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় প্রশ্ন
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, মামলায় যাদের নাম যুক্ত করা হচ্ছে তাদের অনেকেই নিরীহ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন।
তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এক বিবৃতিতে জানান, মামলায় আর্থিক সুবিধা নেয়া এবং আসামি করার হুমকির মতো কাজগুলো বন্ধে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারও স্বীকার করেছেন, মামলার বাণিজ্য থামাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মামলা বাণিজ্য বন্ধে এবং মিথ্যা মামলা দায়েরকারী ও হয়রানিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এমনকি যারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার মাধ্যমে ব্যবসা বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা আরও জোরদার করা হবে।





