,

রাজধানীতে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি: মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়ছে

রাজধানীতে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি যেন এক অনিয়ন্ত্রিত সমস্যা হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা, আকাশচুম্বী জমির মূল্য এবং নীতিমালার অভাব ভাড়াটেদের জীবনকে ক্রমেই দুর্বিষহ করে তুলছে।

ফলে সীমিত আয়ের চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবার জীবনই হয়ে পড়ছে চাপপূর্ণ।

ব্যবসার জন্য ভাড়ার চাপে বিপর্যস্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ছোট অফিস স্থাপন করেছিলেন কামাল হোসেন।

এক বছরের মধ্যেই তাঁর ভাড়া বাড়ানোর নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাঁর কথায়, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কাজ শুরু করতেই পারিনি, এর মধ্যেই ভাড়া বাড়ল।’

ছোট ব্যবসায়ীরা এমন চাপে পড়ছেন, যেখানে তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

ফলে অর্থনীতির ক্ষুদ্র খাতেও স্থবিরতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাসাভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব মধ্যবিত্তের ওপর

রামপুরার মো. জানে আলমের বাসার ভাড়া এক লাফে বেড়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা।

বাড়ির মালিকের যুক্তি, বাথরুমে নতুন টাইলস বসানো হয়েছে।

অন্যদিকে বনশ্রীর শরীফ আহমেদের বাসার ভাড়া প্রতি বছরই নিয়মিত বাড়ে।

এ বছর তাঁর বাসাভাড়া বেড়েছে ১,৫০০ টাকা।

মধ্যবিত্তের আয় বাড়ছে না, অথচ বাড়িভাড়া বেড়ে চলেছে, যা তাদের জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

অভিজাত এলাকার বাসাভাড়া আকাশচুম্বী

ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকার বাসাভাড়া এখন অনেকের নাগালের বাইরে।

ধানমন্ডি ৫ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া ১ লাখ টাকা, সঙ্গে ৭ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ।

অন্যদিকে লালমাটিয়ার একটি ফ্ল্যাটে নতুন ভাড়াটে মো. আমিনুল ইসলামকে প্রতি মাসে ৬৩ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।

এমন উচ্চ ভাড়া নির্ধারণে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অভিজাত এলাকার বাসাভাড়া আরও বেড়ে চলেছে।

নারীদের জন্য বাসাভাড়া খুঁজতে বাধা

রাজধানীতে নারীদের জন্য বাসাভাড়া খুঁজে পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

অবিবাহিত নারীদের বাসা ভাড়া দিতে অনাগ্রহী বেশির ভাগ বাড়ির মালিক।

কর্মজীবী ফারহানা বহ্নি জানিয়েছেন, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বাসা ভাড়া পেতে তাঁকে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

নারীদের জন্য মানসম্মত এবং নিরাপদ বাসা খুঁজে পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত মহিলা হোস্টেল নেই।

প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা

বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি গোলাম রহমানের মতে, ভাড়া নিয়ে লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক করা উচিত।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেছেন, ভূমি ও ফ্ল্যাটের ওপর সরকারকে নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।

ভাড়াটেদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে কম সুদে ফ্ল্যাট দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ‘ঢাকা ভাড়াটিয়া উন্নয়ন সোসাইটি’।

তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমবে।

আরও পড়তে পারেন