চট্টগ্রামের একটি আদালত বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র এবং ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তার জামিন আবেদন বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে খারিজ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়া।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আদালতের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশ, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের আদালতের প্রবেশমুখে সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা যায়।
মহানগর দায়রা জজ আদালতে ভার্চুয়াল শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেয় যে, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা জামিন অযোগ্য।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, এই মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন হতে পারে এবং মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।
শুনানি শেষে আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
এর আগে সাবেক ইসকন নেতার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের ১১ জন আইনজীবীর একটি দল শুনানিতে অংশ নিতে চট্টগ্রামে যান।
তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকায় সতর্ক নজরদারি চালায়।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ও আইনজীবীদের অবস্থান
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দাবি করেছেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুরুতর এবং তিনি জামিন পাওয়ার উপযুক্ত নন।
তারা বলেছেন, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৬ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া আবশ্যক।
তবে আইনজীবীরা যুক্তি দেন, মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ প্রমাণিত নয় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
চিন্ময়ের আইনজীবী সুমন কুমার রায় আদালতে বলেন, “তার বিরুদ্ধে পতাকা অবমাননার অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাবেশে প্রদর্শিত পতাকাটি আসলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নয়।
এছাড়া অভিযোগের সঙ্গে যে পতাকা সংক্রান্ত প্রমাণ থাকা দরকার ছিল, তা মামলার জব্দ তালিকায় নেই।
আইনজীবীরা দাবি করেন, মি. দাস নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করেন এবং পালানোর আশঙ্কা নেই।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় জামিন দেওয়া হলে প্রমাণ সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
চিন্ময়ের গ্রেফতার ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের সনাতনী সম্প্রদায়ের এক সমাবেশে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ উঠে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২৫ নভেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
পরদিন চট্টগ্রামের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের মৃত্যু ঘটে।
এর ফলে ৭০ জন হিন্দু আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
ভারতের বিভিন্ন মহলে চিন্ময়ের গ্রেফতার নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এমনকি বিষয়টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও আলোচিত হয়।
জামিন স্থগিত: প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও হতাশা
সাবেক ইসকন নেতার জামিন শুনানির পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ছিল ৩ ডিসেম্বর।
তবে সেদিন তার পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় শুনানি পিছিয়ে ২ জানুয়ারি ধার্য করা হয়।
চিন্ময়ের পক্ষে আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ এই তারিখ এগিয়ে আনার জন্য আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে।
তার আইনজীবীরা আদালতের রায়ের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তারা বলেছেন, মামলাটি প্রক্রিয়াগত ত্রুটিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রভাবিত।
তবে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি গ্রহণ করে জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।





