টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট।
আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় নাফ নদে পণ্যবাহী কার্গো আটকে দেওয়ার ঘটনায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
জাহাজগুলোতে পঞ্চাশ কোটি টাকার পণ্য থাকলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।
আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও নাফ নদে নিষেধাজ্ঞা
মিয়ানমারের আরাকান আর্মি গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
তারা নাফ নদে মিয়ানমারের অংশে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার প্রভাব পড়েছে টেকনাফ বন্দরের ওপর।
জানুয়ারি মাসে টেকনাফে মিয়ানমার থেকে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ আসেনি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আরাকান আর্মি কার্গো আটকে কমিশন আদায়ের চেষ্টা করছে।
টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, চারটি পণ্যবাহী জাহাজ আরাকান আর্মি আটক রেখেছে।
তিনি জানান, বন্দরের কোনো ব্যবসায়ী এখন পণ্য আমদানিতে আগ্রহী নন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সমস্যাটি সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
কার্গো আটকের প্রভাব ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
ইয়াঙ্গুন থেকে আসা চারটি কার্গো নাফ নদে আটকানোর ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জাহাজগুলোতে শুঁটকি, আচার, সুপারি ও অন্যান্য পণ্যবাহী ৫০ হাজারের বেশি বস্তা রয়েছে।
ব্যবসায়ী শওকত আলী জানান, তার এক কোটি টাকার পণ্য রয়েছে আটকে থাকা কার্গোতে।
তিনি বলেন, “কমিশন না দিলে আরাকান আর্মি জাহাজ ছাড়বে না।”
অন্য ব্যবসায়ী মো. রানা জানান, একশর বেশি ব্যবসায়ীর পণ্য আটকে থাকায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পণ্য আটকে থাকলে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসবেন।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা টেকনাফ বন্দর ঘিরে বাণিজ্য গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
বাণিজ্য সচল রাখতে করণীয়
টেকনাফের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বলেন, “মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য চালু রাখতে স্থায়ী সমাধান দরকার।”
নাফ নদে বাংলাদেশের অংশ খনন করে আলাদা চ্যানেল চালু করার প্রস্তাবও দিয়েছেন অনেকে।
তারা দাবি করছেন, খনন কাজ হলে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে বাণিজ্য চালানো সম্ভব হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, “যেকোনো সশস্ত্র গ্রুপ কমিশন চাইবে, তাই আরাকান আর্মির সঙ্গে সমঝোতা প্রয়োজন।”
তিনি মনে করেন, মিয়ানমারের জলসীমায় বাণিজ্য চালানোর আগে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
সীমান্ত বাণিজ্যে বড় ধাক্কা
গত কয়েক বছর ধরে টেকনাফ বন্দরে পণ্য আমদানিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পণ্য এসেছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ২২৫ টন।
তবে চলতি অর্থবছরে মাত্র ৮ হাজার ৮০০ টন পণ্য এসেছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা।
মিয়ানমার থেকে সাধারণত কাঠ, শুঁটকি, আদা ও সুপারি আমদানি হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আলু, সিমেন্ট ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়।
তবে আরাকান আর্মির কারণে সীমান্ত বাণিজ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা দুই দেশের ব্যবসায়িক স্বার্থকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।