,

সবজির দামে স্বস্তি, তবে পেঁয়াজ, মুরগি ও চালের দাম চড়া

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়ে কিছু পণ্যের দামে স্বস্তি মিললেও, পেঁয়াজ, মুরগি ও চালের দাম ক্রেতাদের কাঁদাচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি এবং চালের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এবং টাউন হল বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি

রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা গেছে, দেশি নতুন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দিন দশেক আগে এই দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে, তবে আমদানিকৃত পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে।

আমদানিকৃত পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ টাকায়।

পেঁয়াজের দামে সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধির ফলে উৎপাদকরা কিছুটা লাভবান হচ্ছেন।

পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি থাকলেও চাষিরা বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।

মুরগির দামে স্থায়ী উচ্চতা

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্রয়লার এবং সোনালি মুরগির দাম বাড়তি অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়।

সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

মাসখানেক আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে।

বাজার বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চাহিদা বেশি থাকায় মুরগির দামে এমন স্থায়ী বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

সবজির দামে সাময়িক স্বস্তি

শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পণ্যের দাম ক্রেতাদের নাগালে এসেছে।

বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

শিমের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

বরবটির দাম কেজি প্রতি ৬০ টাকা এবং মুলার দাম ২০ টাকায় নেমেছে।

শসা ও কচুর লতির দামও কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

তবে, শাকসবজি, বিশেষ করে লাল শাক ও পালংশাক প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

চাল, তেল ও মাছের বাজারে চাপ

চালের দাম এখনো ক্রেতাদের জন্য বাড়তি বোঝা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোটা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায়।

মাঝারি এবং সরু চালের দাম যথাক্রমে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ৭০ থেকে ৭৪ টাকা।

তবে, খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এই দাম টিসিবির তথ্যের চেয়ে কিছুটা বেশি।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সামান্য বেড়েছে, তবে চাহিদার তুলনায় তা অপর্যাপ্ত।

মাছের বাজারেও চাহিদা বাড়ার ফলে দামের উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

তেলাপিয়া এবং পাঙ্গাস প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং বড় আকারের রুই-কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

দেশি শিং এবং ইলিশ মাছের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ক্রেতাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়তে পারেন