অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের কিছু প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি তুলেছে বিএনপি।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ করে সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তনের সুপারিশগুলোতে তাদের গভীর আপত্তি রয়েছে।
এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও একাধিক নেতার বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের সঙ্গে নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে একইসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি
বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংবিধান, নির্বাচন, পুলিশ এবং দুদকের সংস্কার বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় চারটি কমিশন।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বাংলাদেশের নাম ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তাছাড়া, সংবিধানের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।
এসবের পরিবর্তে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে এসব সুপারিশকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
দলটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জাতীয়তাবাদ বাদ দিয়ে বহুত্ববাদকে অন্তর্ভুক্ত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও জানান, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবর্তে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামকরণের প্রস্তাবও বিএনপির দৃষ্টিতে অযৌক্তিক।”
বিএনপির সংস্কার নিয়ে মনোভাব
বিএনপি জানিয়েছে, নির্বাচন-সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবে তাদের আপত্তি নেই।
তবে সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তনের মতো গুরুতর বিষয়গুলো নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টতই ভিন্ন।
এ কারণেই জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সরকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি।
পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় বৈঠকে একজন প্রতিনিধিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলটির নেতারা মনে করেন, সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও তা নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করতে ব্যবহার করা উচিত নয়।
নির্বাচনের দাবিতে অনড় অবস্থান
বিএনপি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল কাজ জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনের তিন মাসের মধ্যেই ১৯৯১ সালে নির্বাচন হয়েছিল।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “৬ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কেন নির্বাচন সম্ভব হবে না?”
বিএনপি অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “সংস্কার চলবে, তবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও একসঙ্গে চলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একানব্বই সালের মতো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে এত সংস্কারের প্রয়োজন নেই।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দলীয় কৌশল
বিএনপি জানিয়েছে, নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে বর্তমান সংস্কার কমিশনগুলো পুনর্গঠন করা হবে।
দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, বর্তমানে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই।”
বিএনপি এ বিষয়ে কৌশলগত নীরবতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।
সংবিধান সংস্কারের নামে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার কঠোর প্রতিক্রিয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।