ডোনাল্ড ট্রাম্প
,

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধই হবে ট্রাম্পের প্রথম কাজ

দায়িত্ব গ্রহণের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রধান কাজ হবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা।

শুক্রবার ফ্লোরিডায় তার বাসভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

এই অনুষ্ঠানটি ছিল নির্বাচনের পর জনসম্মুখে দেওয়া তার প্রথম বড় বক্তব্য।

ট্রাম্প তার বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি বারবার উল্লেখ করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেননি।

শান্তির প্রতিশ্রুতিতে ভরসা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের মতো একটি বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে ট্রাম্পের দৃঢ় অবস্থান অনেকের নজর কেড়েছে।

বিশ্বব্যাপী অনেকেই এই যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের সমাধান চান।

ট্রাম্প এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছেন।

তবে তিনি কূটনৈতিক, সামরিক বা অর্থনৈতিক কোনো পন্থায় এটি বাস্তবায়ন করবেন, তা স্পষ্ট করেননি।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে মনোযোগ

ট্রাম্প তার বক্তব্যে শুধু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকেও তার অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছেন।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবেন।

তবে তার বক্তব্যে এই ইস্যুতে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ বা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রশাসনের সংস্কার পরিকল্পনা

নিজের সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়ে বলতে গিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত, ভঙ্গুর এবং ব্যর্থ প্রশাসনকে সাফ করা’ হবে তার লক্ষ্য।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে এমন অনেক উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা তার সমর্থকরা বিপ্লবী বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনিক সংস্কারের যে পরিকল্পনার কথা ট্রাম্প জানিয়েছেন, তা তার সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।

বিজয়ের আনন্দ ও সমর্থকদের ধন্যবাদ

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমরা যে এভাবে জিতে যাবো, তা কেউ জানতো না। এটি একটি বড় বিজয় ছিল।”

তিনি তার সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান যারা তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছেন।

ট্রাম্প তার নির্বাচনী বিজয়কে “গণতন্ত্রের বিজয়” বলে আখ্যা দেন।

অনুষ্ঠানে হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের মিলেই, মার্কিন হাউজ স্পিকার মাইক জনসন এবং টেসলার মালিক ইলন মাস্ক।

ট্রাম্প বলেন, ইলন মাস্ক তার বাসভবনে কিছুদিন অবস্থান করেছেন।

মজা করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি এই জায়গাটি পছন্দ করেন। আমি তাকে বের করে দিতে পারি না।”

এ ছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বিবেক রামাস্বামী এবং মার্কিন রাজনীতিবিদ টালসি গ্যাবার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাম্প ঘোষণা দেন, বিবেক রামাস্বামী এবং টালসি গ্যাবার্ডকে সিনিয়র পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার জন্য ডগ বারগামের মনোনয়ন

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি হোম সেক্রেটারি হিসেবে ডগ বারগামকে মনোনীত করেছেন।

ডগ বারগাম প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ফেডারেল জমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিভাগটি পরিচালনা করবেন।

এই পদটি মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত এবং সেনেটের অনুমোদন সাপেক্ষ।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা তার প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নেতৃত্বের ধরন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি

ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।

ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে ঐতিহ্যবাহী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি নতুন দায়িত্বে অভিষিক্ত হবেন।

ইলেক্টোরাল কলেজ প্রক্রিয়া

এর আগে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার জন্য ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটগ্রহণ এবং ভোট গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আগামী ১৭ জানুয়ারি ইলেক্টোরাল কলেজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে তাদের ভোট প্রদান করবেন।

৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট গণনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস।

এই গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

রূপান্তরকালীন সময়

শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় ‘রূপান্তরকালীন সময়’।

এই সময়ের মধ্যে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রিসভা গঠন, প্রশাসনিক পরিকল্পনা এবং নীতিনির্ধারণের কাজ শেষ করেন।

ট্রাম্প বর্তমানে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছেন।

নির্বাচনী বিজয়ের তাৎপর্য

ট্রাম্পের নির্বাচনী বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

সমর্থকরা মনে করছেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন গতিপথ পাবে।

তবে অনেক সমালোচক তার নীতি এবং পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া

বিশ্ব রাজনীতির ওপর ট্রাম্পের এই ঘোষণা এবং তার প্রশাসনিক পরিকল্পনার প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।

কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্প যদি সত্যিই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে সক্ষম হন, তাহলে তা বিশ্ব রাজনীতিতে যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ট্রাম্পের চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে ট্রাম্পকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

তার প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জন এবং সমালোচকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়াই হবে প্রথম ধাপ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের সফলতা নির্ভর করবে তার কৌশল এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।

ভবিষ্যতের অপেক্ষা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য এবং পরিকল্পনার ভিত্তিতে তার সমর্থকরা আশাবাদী যে, যুক্তরাষ্ট্র তার নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

বিশ্ববাসী এখন অপেক্ষা করছে, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি এবং তার প্রশাসনিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখার জন্য।

তিনি যে দায়িত্ব পালনের অপেক্ষায় আছেন, তা তার বক্তব্যের প্রতিটি বাক্যে প্রকাশ পেয়েছে।

তবে বাস্তবে তিনি কতটা সফল হবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

আরও পড়তে পারেন