,

রাশিয়ায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাইডেনের সবুজ সংকেত

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার ভূখণ্ডে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছেন ইউক্রেনকে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সরবরাহ করেছে, যা ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালাতে সক্ষম করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে কৌশলগত নতুন ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

বাইডেনের সিদ্ধান্ত ও এর তাৎপর্য

যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছিলেন।

অবশেষে রবিবার বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে এই অনুমতি দেয়।

এটি ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ক্ষমতা প্রদান করবে, যা ভবিষ্যতের শান্তি আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

জেলেনস্কি এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এসব বিষয় ঘোষণা করা হয়নি, ক্ষেপণাস্ত্রই তাদের জন্য কথা বলবে।”

এটিএসিএমএস নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তিনশো কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।

কিয়েভ ভিত্তিক ইউক্রেনিয়ান সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন সেন্টারের চেয়ারম্যান সেরহি কুজান বলেছেন, বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

“এটি যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি বদলে দেবে না, তবে এটি আমাদের বাহিনীকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে আরও সমানে লড়াই করার ক্ষমতা দেবে,” বলেন কুজান।

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া এবং পশ্চিমা জোটের অবস্থান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপকে ন্যাটো সামরিক জোটের সরাসরি অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তবে রবিবার বাইডেনের সিদ্ধান্তের পর পুতিন কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেননি।

ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তকে “মারাত্মক উস্কানি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বাইডেনের অনুমোদনের পর ব্রিটেন এবং ফ্রান্সও একই ধরনের হামলার অনুমতি দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে দেশ দুটি এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ

ইউক্রেন গত অগাস্টে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে হামলা চালিয়েছিল।

এই অঞ্চলটি ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দরকষাকষির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

তবে, রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে ড্রোন হামলা বৃদ্ধি করেছে।

অক্টোবরে রাশিয়া দুই হাজারের বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর একটি রেকর্ড।

শুধুমাত্র শনিবার রাতে রাশিয়া ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৯০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এই হামলায় ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে দুই শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছে।

ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার সম্ভাব্য প্রভাব

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প ইতিমধ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে কীভাবে তিনি এটি করবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।

একটি জার্মান গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি সমর্থন কমিয়ে দেয়, তবে এটি যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং ইউক্রেনের অবস্থান এখন অনেকটাই বাইডেন এবং ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

আরও পড়তে পারেন