নির্বাচন কমিশন (ইসি)
,

বিতর্কিত তিন নির্বাচন নিয়ে দুর্নীতি তদন্তে দুদকের উদ্যোগ

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের শাসনামলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই তিন নির্বাচনে অর্থ অপচয়, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়ম নিয়ে তদন্তে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই নির্বাচনের আয়োজন এবং প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দুদক নিশ্চিত করেছে, শিগগিরই সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হবে।

তিন নির্বাচনের বিতর্ক ও অভিযোগ

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আওয়ামী লীগ।

এরপর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলীয় সরকারের অধীনে ভোট গ্রহণ করা হয়।

২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো বর্জন করেছিল।

সেই নির্বাচনে অধিকাংশ আসনে বিনা ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীসহ জোটের প্রার্থীরা জয়ী হন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূরণের অভিযোগ উঠে।

নির্বাচনের দিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট শতাধিক আসনে ভোট বর্জন করে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ নিজ দলের প্রার্থী দিয়েই নির্বাচন সম্পন্ন করে।

দুদকের অনুসন্ধানের কারণ

দুদক জানায়, বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং অর্থের অপচয় নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

ইভিএম কেনা এবং ব্যবহারে শত শত কোটি টাকার অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনেক ইভিএম সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল ২৬৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের নির্বাচনে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৭০০ কোটি টাকায়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে খরচ আরও বেড়ে হয় ২৩শ কোটি টাকার বেশি।

দুদক এসব অর্থ অপচয়ের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনবে।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার অপব্যবহার

দুদক অভিযোগ পেয়েছে যে, সাবেক নির্বাচন কমিশনগুলো ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।

রাজনৈতিক পক্ষপাতের কারণে কমিশন তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতায় রাখার ব্যবস্থা করেছিল।

২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ নির্বাচনে ব্যালট বাক্স পূরণের জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরির বদলে নিজেরাই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।

দুদকের পরিকল্পনা

দুদক জানিয়েছে, সাবেক সিইসি এবং ইসিদের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

নির্বাচনে কোনো ধরনের আর্থিক তছরুপ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

দুদকের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এই অনুসন্ধানটি বড় আকারের এবং সময়সাপেক্ষ হবে।

কত টাকা নির্বাচনে অপচয় হয়েছে এবং কীভাবে তা ব্যয় করা হয়েছে, তার বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার এই তিন নির্বাচনকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “একটি পক্ষকে ক্ষমতায় রাখতে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় ছাড়া এই নির্বাচনগুলোর কোনো বৈধতা ছিল না।”

২০১৪, ২০১৮, এবং ২০২৪ সালের প্রতিটি নির্বাচনেই আর্থিক অপচয় এবং অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উঠে আসা উচিত।”

দুদক বলছে, নির্বাচনী অনিয়মের তদন্তে তারা আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

আরও পড়তে পারেন