ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা।
তার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. ইউনূস।
নতুন সরকারের লক্ষ্য হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
ড. ইউনূসের সরকার সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে বিদেশি শক্তিগুলো থেকে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের চাপ বাড়াচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারের বিতর্কিত নির্বাচন এবং নতুন সরকারের পদক্ষেপ
বিগত চারটি নির্বাচনের মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন শেষ তিনটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক চলেছে।
বিশেষ করে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে দেশ ও বিদেশে প্রশ্ন উঠেছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের পর থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও সমালোচনার মুখে পড়ে।
নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে মনোযোগ দিয়েছে।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিক কমিশন গঠন করেছে।
এসব কমিশন নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন, পুলিশ, এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো সংস্থাগুলোর সংস্কারে কাজ করছে।
সংবিধান সংশোধনসহ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচন নিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে ইতিবাচক হলেও দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি নিশ্চিত করেছেন যে, সম্প্রতি দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কীভাবে আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে।
গারসেটি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও এখন বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সম্প্রতি নির্বাচিত সরকারের অধীনে সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বের কথা বলেছেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দেশগুলোর অবস্থান
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
চীনের রাষ্ট্রদূতও বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সহায়তায় কাজ শুরু করেছে।
ইউএনডিপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের নির্বাচনী সহায়তার বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করবে।
আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশগুলোও বাংলাদেশের নির্বাচনে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
বিশেষ করে ভারত এবং চীন তাদের কূটনৈতিক চ্যানেলে এ বিষয়ে সক্রিয়।
দ্রুত নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ
মার্কিন নির্বাচনে জো বাইডেনের দলের পরাজয়ের পর বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বেড়েছে।
ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা করেছে।
বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোও দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিদেশিদের এই আগ্রহ বাংলাদেশের নির্বাচনী চাপ আরও তীব্র করেছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত গারসেটি বলেন, গণতন্ত্রের মতো সম্পর্কও পরিচর্যার প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, সম্পর্ক অন্তরঙ্গ হলে খোলামেলা আলোচনা করা যায়।
জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাপ দিচ্ছে।
নির্বাচনী সহায়তায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস জানান, প্রয়োজনীয় মূল্যায়নের পর সহায়তার পরিধি নির্ধারণ করা হবে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে চাপ অব্যাহত রয়েছে।