,

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক: সির বার্তা এবং বাইডেনের আহ্বান

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়েছেন।

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে শনিবার পেরুর লিমায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে সাইবার অপরাধ, বাণিজ্য, তাইওয়ান ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং মতবিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সি-বাইডেন বৈঠকের মূল বার্তা

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই নেতা একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে এবং মতপার্থক্য মেটাতে প্রস্তুত।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

সি বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অতীতে যেমন উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে, তা ভবিষ্যতেও থাকবে।

তবে দুই দেশের মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের প্রতিশ্রুতি অটুট থাকবে।

বাইডেন চীনের এই প্রতিশ্রুতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক বরাবরই জটিল।

তবে খোলামেলা আলোচনা এবং অকপট আলোচনার মাধ্যমে অনেক বিষয়ে সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

চীনা পণ্যের শুল্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোরতা

ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এই পরিকল্পনা ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতির অংশ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

চীন এসব পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য পররাষ্ট্রনীতিতেও চীনবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত রয়েছে।

চীনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত মার্কো রুবিওকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাইক ওয়াল্টজকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করার পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে।

এই মনোভাব চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাইডেনের উদ্যোগ এবং উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মসৃণ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

তবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে একাধিক ইস্যু জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাইওয়ানের ওপর চীনের চাপ এবং রাশিয়ার প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার আরেকটি কারণ হলো চীনের সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তাদের টেলিফোন আলাপ ফাঁস হওয়া।

এই ঘটনাগুলো বাইডেন প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বৈঠকে বাইডেন উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বাইডেনের মতে, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া ইস্যুতে একটি ভারসাম্য আনতে পারে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলোর একটি।

এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালার ওপর।

ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, চীনের বিরুদ্ধে নেওয়া সম্ভাব্য পদক্ষেপ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বার্তা এবং পার্থক্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি সম্পর্ক উন্নয়নের আশা জাগিয়েছে।

তবে মধ্যবর্তী সময়ের উত্তেজনা এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণ করা চীনের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের প্রশাসন এবং চীনের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর এবং টেকসই সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

আরও পড়তে পারেন