গাজায় ১৫ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হামাস ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে, দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে কাতার।
চুক্তি অনুসারে উভয় পক্ষ গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে এবং জিম্মিদের মুক্তি দেবে।
কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি
কাতারের প্রধানমন্ত্রী হামাস এবং ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
আলোচনার একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, “যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।”
বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়।
গাজায় যুদ্ধবিরতির খবরে রাস্তায় ফিলিস্তিনিদের উল্লাস করতে দেখা গেছে।
গাজায় বাস্তুচ্যুতদের ঘরে ফেরার সুযোগ
যুদ্ধবিরতির ফলে গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন।
বিবিসির গাজা সংবাদদাতা রুশদি আবুআলুফ জানিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গাজার দক্ষিণ অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।
চুক্তির আওতায় রাফাহ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ছয়শ ট্রাক ত্রাণ এবং চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশ করবে।
গাজার অবশিষ্ট হাসপাতালগুলো সচল রাখতে ৫০টি জ্বালানি ভর্তি লরি সরবরাহ করা হবে।
জিম্মিদের মুক্তির শর্ত
চুক্তির আওতায় হামাস ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে।
প্রতিজন জিম্মির বিনিময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে।
বিবিসি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর জিম্মি হওয়া ২৫১ জনের মধ্যে ৯৪ জন গাজায় রয়ে গেছেন।
এদের মধ্যে ৬০ জন জীবিত এবং ৩৪ জন মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই মুক্তির কাজটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিকে তার “ঐতিহাসিক বিজয়ের” ফলাফল বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমাদের বিজয়ই এই চুক্তি সম্ভব করেছে।”
তিনি আরও জানান, “মধ্যপ্রাচ্যে জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।”
এর আগে তিনি সামাজিক মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দেন।
১৫ মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১,২০০ জনকে হত্যা করে।
হামাস ওই দিন ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়।
এরপর থেকে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক হামলা চালাতে থাকে।
গাজায় ১৫ মাসের সংঘর্ষে ৪৬ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজায় এই দীর্ঘ সংঘর্ষে অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসার আশা করছেন অনেকে।