ওবায়দুল কাদের
, ,

ওবায়দুল কাদের দেশ ছাড়লেন কীভাবে: ট্রাইব্যুনালের ব্যাখ্যা দাবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দেশত্যাগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে বাংলাদেশ ছেড়ে গেছেন তা জানতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দেয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য সময় বৃদ্ধি

ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রতিবেদনের সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়িয়েছে।

এ মামলায় এর আগেও একাধিকবার সময় বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে সময় বাড়ানোর আবেদন করেন।

তাজুল ইসলাম জানান, বিপুল তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি এবং ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনের সময় ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই তদন্তে গণহত্যা, গুমসহ বহু অপরাধের তথ্য উঠে এসেছে, যা যাচাই-বাছাই ছাড়া উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।

প্রসিকিউটর জানান, এ কাজ সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মেনে দিন-রাত কাজ করা হচ্ছে।

দেশত্যাগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাখ্যা চাওয়া

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও তিনি কীভাবে দেশত্যাগ করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তিনি তিন মাস দেশে অবস্থান করেছেন এবং তারপর দেশ ছেড়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন তাকে আটক করেনি বা কীভাবে তিনি দেশের সীমানা পেরিয়েছেন, সে বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ যদি কেউ অমান্য করে, তাহলে এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং সংবিধান ও আইনের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্তে অগ্রগতি

ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়েছে।

তাজুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা, গুমসহ বহু অভিযোগ তদন্তাধীন।

গুম কমিশনের প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন প্রসিকিউটর।

তাজুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় হাজার হাজার মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের স্থান ও প্রমাণ ভিকটিমদের সহায়তায় চিহ্নিত করা হয়েছে।

কারাগারে প্রিজন ভ্যান থেকে পলকের মন্তব্য

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছিল সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ ১৬ জন আসামিকে।

তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, “আমরা বোবা হয়ে আছি। আপনারা মুক্ত আছেন তো?”

তার এই মন্তব্য গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তবে প্রসিকিউশন বলছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এসব মামলার তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়তে পারেন