ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ইউএনআরডব্লিউএ নিষিদ্ধকরণ বিলের বিপর্যয়কর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক জাতিসংঘ
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সম্প্রতি ইউএনআরডব্লিউএ’র (ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা) কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ বিল পাস হওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংস্থাটির পূর্ব জেরুসালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় কার্যক্রম পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে চলেছে।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে ইউএনআরডব্লিউএ’র কমিশনার জেনারেল ফিলিপ্পে লাজ্জারিনি বলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসও আইনটি কার্যকর হলে তার সম্ভাব্য বিপর্যয়কর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
বিলটি পাস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, ইউএনআরডব্লিউএ গাজায় মানবিক সহায়তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের মতে, এই মূহুর্তে অন্য কোন সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র জায়গা নিতে পারবে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েলের নতুন আইন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্রাণ কার্যক্রমকে ঝুঁকিপূর্ণ করবে। এছাড়াও জার্মানি, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, স্পেন ও নরওয়েসহ আরও কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গাজায় ইউএনআরডব্লিউএ’র মানবিক কার্যক্রম
ইউএনআরডব্লিউএ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধকালীন সময়ে আশ্রয় শিবির তৈরি এবং খাদ্য সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ অঞ্চলের হাজার হাজার শরণার্থী গাজায় সংস্থাটির দেওয়া খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইউএনআরডব্লিউএ -এর ওপর নিষেধাজ্ঞা এলে তাদের জন্য সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন গাজার শরণার্থীরা।
গাজার একজন সাংবাদিক জানান, “গাজার শরণার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই ইউএনআরডব্লিউএ -এর খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা তাদের মানবিক কার্যক্রমকে ধ্বংস করে দিবে।”
ইউএনআরডব্লিউএ -এর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইউএনআরডব্লিউএ’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছিলো যে, সংস্থাটি গাজায় হামাসের সাথে কাজ করে। ইসরায়েলের দাবি, গত বছর সাতই অক্টোবর হামাসের হামলায় ইউএনআরডব্লিউএ’র কর্মীরাও জড়িত ছিল। জাতিসংঘ এ ঘটনার তদন্ত করে নয়জন কর্মীকে চিহ্নিত করে এবং অগাস্টে তাদের বরখাস্ত করে।
ইউএনআরডব্লিউএ কর্মী ও শরণার্থীদের প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের নতুন আইন নিয়ে ফিলিস্তিনিরাও তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গাজায় বসবাসরত ওম ইউসুফ বলেন, “ইউএনআরডব্লিউএ -এর কাজ বন্ধ করা হলে আমাদের জন্য চিকিৎসা ও শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে।” ওম সহায় নামে একজন বলেন, “এ সিদ্ধান্ত আমাদের তেল ও খাবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। ইউএনআরডব্লিউএ’র দেয়া ময়দা ছাড়া এ দেশে আমাদের জন্য কিছুই নেই।”
নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক চাপ
ইসরায়েলের নতুন আইন কার্যকর হলে গাজায় ইউএনআরডব্লিউএ’র মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা হয়।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের প্রভাব গভীর এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ইউএনআরডব্লিউএ-এর নিষেধাজ্ঞার ফলে গাজার শরণার্থীদের জীবন-জীবিকা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





